আন্তর্জাতিক মাতৃ দিবসে দমদম শব্দমুগ্ধ নাট্যকেন্দ্রর উপস্থাপনা ‘স্তন্যপায়ী’

মাতৃদিবসে মাতৃত্বের গল্প
মানুষ-মা হোক কি পশু-মা, মাতৃত্বের রূপ সবার একই রকম। এরকমই এক মাতৃত্বের গল্প নিয়ে দমদম শব্দমুগ্ধ নাট্যকেন্দ্রর প্রযোজনায় ১২ মে আন্তর্জাতিক মাতৃ দিবসে, তৃপ্তি মিত্র নাট্যগৃহে মঞ্চস্থ হয়ে গেল বিনোদ ঘোষালের কাহিনী অবলম্বনে নির্মিত ‘স্তন্যপায়ী’ নাটকটি। নাটকটির নাট্যরূপ ও নির্দেশনায় রাকেশ ঘোষ। এক নপুংসক, এক রমণী ও এক বাঘিনী–তিন স্তন্যপায়ী প্রাণীর বেদনাক্লিষ্ট যাপনের আখ্যান উঠে আসে ‘স্তন্যপায়ী’ নাটকে।

গল্পের পটভূমি ডুয়ার্সের জঙ্গল ঘেঁষা বাংলা-ভূটান সীমান্তের রঙলাপোতা বস্তি। রক্ত মাংসের মানুষ মা হোক কি বাঘিনী মা, সকলেই সন্তানের প্রতি যত্নশীল। শত প্রতিকূলতা, অভাব-অনটনের মধ্যেও তার সন্তানের খাবারটুকু ঠিক জোগাড় করে নেয় মা। বাঘ হোক কি মানুষ মা, প্রকৃতিগতভাবে তারা যতই আলাদা হোক না কেন, মাতৃত্ব তাদেরকে বেঁধে ফেলে এক বিন্দুতে। তাই এক কথায় বলতে গেলে মাতৃত্বের গল্প স্তন্যপায়ী।

তিন ভিন্ন মায়ের অসহায়তার চিত্র উঠে আসে এই নাটকে। তিন স্তন্যপায়ীই সন্তানকে স্তন্য পান করানোর জন্য উদগ্রীব কিন্তু নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাসে তিনজনের স্তনেই দুধ নেই।
ডুয়ার্সের জঙ্গল-ঘেঁষা বাংলা-ভূটান সীমান্তের রঙলাপোতা বস্তিতে দাইয়ের কাজ করা স্তন্যদুগ্ধহীন মাতৃত্ব-কাঙালী নপুংসক রাখীর নিজস্ব খাটাল আছে। দুধ বেচে সে। তার পোষ্য কালী গাইয়ের দুধই যেন তার নিজস্ব দুধ। ওই বস্তিরই স্বভাব-ভীতু প্রোষিতভর্তৃকা ফতেমা বিবির দুমাসের সন্তান দুধের অভাবে আকুল। অপুষ্টিজনিত রোগে তার বুকের দুধ গেছে শুকিয়ে। অন্যদিকে জঙ্গলের প্রসূতি চিতা বাঘিনী খাদ্যের অন্বেষণে জঙ্গল ছেড়ে ঘোরাফেরা করছে লোকালয়ে। কারণ নিজে অভুক্ত থাকলে সন্তানকে দুধ দেবে কিভাবে! এই পরিস্থিতিতে ফতেমার সহায় হয় দুগ্ধসরবরাহকারী রাখী। কিন্তু চিতা বাঘিনীর সহায় হবে কে? এমন সময় আপাত-নিরুপদ্রব বস্তিতে এসে পৌঁছায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ঢেউ। ইচ্ছাকৃত গো-বৎস হত্যা হয়। অকারণ অস্ত্র-নিনাদ, নারী-সম্মানলুঠ, প্রাণঘাতী রক্তপাতের আবহে তিন স্তন্যপায়ী জননী একই ঘরে অবরুদ্ধ হয়। মাংশাসী নরখাদক চিতা বাঘিনী, সন্তান বাঁচাতে মরিয়া ফতেমা বিবি, মাতৃত্ব-আকুল পরস্তন্যনির্ভর রাখী- তিনজনেই এসে দাঁড়ায় এক সরলরেখায়। দুধ চাই, দুধ। সন্তানকে বাঁচাতে হবে যে। আর সেই পথই খোঁজা হয় এই নাটকে। এখানেই তৈরি হয় নাটকের অদ্ভূত এক ক্লাইম্যাক্স।

এই স্তন্যপায়ী নাটকে রাখির চরিত্রে অভিনয় করেছেন রঞ্জন বোস, ফতেমা চরিত্রে কৃষ্ণা রায়। নাটকের মূল ভার বহন করতে হয় মূলত তাদেরকেই। অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন সন্দীপ ঘোষ, কৃশানু চক্রবর্তী, অভিষেক মুখার্জি, সৌরদীপ ব্যানার্জী, দেবব্রত টিকাদার।