মহিলা শিল্পীদের লোকগানের ব্যান্ড ‘ক্ষ্যাপা’। যার বিশেষত্ব হল, প্রত্যেক মহিলা এখানে যন্ত্র সংগীত সহ গান-বাজনা করে থাকেন। তারা বাংলার আনাচে-কানাচে বিভিন্ন জায়গায় সুনামের সাথে অনুষ্ঠান করে আসছেন। চমক বলতে এটাই, এবার থেকে এই দলে নতুন সংযোজন অভিনেতা শঙ্কর চক্রবর্তী ও লোকশিল্পী অভিজিৎ আচার্যের প্রবেশ। ক্ষ্যাপার ট্যাগলাইন- ‘ছটি মিনি দুটি হুলো, জমবে এবার মঞ্চগুলো’। ১৩ জুলাই, রবিবার, তারা তাদের একটি মৌলিক গান সহ দুটি গান অর্থাৎ মোট তিনটি গানের ভিডিও শুট, রেকর্ডিং করলেন, এই পুজোর জন্য। দুর্গা পুজোর ওপর একটি নতুন মৌলিক গান, একটি শচীন কর্তার গান এবং আরেকটি জনপ্রিয় কীর্তনাঙ্গের গান থাকছে। অভিনেতা শঙ্কর চক্রবর্তী ও অভিজিৎ আচার্য দুটি গানে পারফর্ম করছেন। একদম ভিন্ন আঙ্গিকে এই দলটি তৈরি হয়েছে। শুধু গান নয়, থাকছে কবিতার মাধ্যমে অন্যরকম প্রয়াসও। তাদের এই নতুন আঙ্গিক শ্রোতাকুল কে একটি ভিন্নমাত্রা দেবে বলেই আশা প্রকাশ করেছেন সকলে। এ নিয়ে কথা বললেন, শঙ্কর চক্রবর্তী, লোকসংগীত শিল্পী অভিজিৎ আচার্য এবং গোপা আচার্য।

শঙ্কর চক্রবর্তী জানালেন, ‘মহিলা গানের ব্যান্ড ক্ষ্যাপা প্রত্যেক বছরই পুজোর জন্য একটা নতুন গান তৈরি করে। সেটি মূলত অভিজিতের লেখা, সুরে ও কম্পোজিশনে তৈরি হয়। আজ ব্যান্ডের সকলে এখানে উপস্থিত আছে। ওরা প্রত্যেকে নিজেরাই গান গায়, নিজেরাই বাজায়, এটাই ওদের বিশেষত্ব। ক্ষ্যাপার জন্মলগ্ন থেকে আমরা থাকলেও পরবর্তীকালে সেভাবে সময় দিতে পারিনি। কিন্তু আমি আর অভিজিৎ ঠিক করেছি, আবার আমরা সময় দেব। এই ক্ষ্যাপা মহিলা ব্যান্ড এর জন্য আমরা আজ কিছু গান রেকর্ড করলাম। যার মধ্যে আমি, গোপা, অভিজিৎ এর গান আছে, ব্যান্ডের সকলের কোরাস এবং অন্যান্য কিছু গান আছে। এছাড়াও এর মধ্যে নাচ থাকবে, কবিতা থাকবে। সব মিলিয়ে আমরা নতুন ভাবে আত্মপ্রকাশ করছি ‘ক্ষ্যাপা’, সেটাই আপনাদের জানাতে চাই। শ্রদ্ধা মিউজিক এর পক্ষ থেকে এগুলো আত্মপ্রকাশ করবে। আপনারা দেখে অবশ্যই মতামত জানাবেন’।
ক্ষ্যাপা মহিলা ব্যান্ডের কান্ডারী গোপা আচার্য জানালেন, ‘আমি শঙ্করদা, অভিজিৎ, সোনালীদি এবং আরও কিছু মানুষজন নিয়ে ক্ষ্যাপার যাত্রা শুরু হয়েছিল। পরবর্তীকালে অভিজিৎ এবং শঙ্করদা দুজনেই ব্যস্ত হয়ে যাওয়ার ফলে আমরা নিজেদের মতো করে একটা মেয়েদের ব্যান্ড তৈরি করি এবং সেখানে আমরা তাদেরকেই বেছে নিয়েছিলাম যারা বাজাতে পারে এবং একই সঙ্গে গান গাইতে পারে। ক্ষ্যাপা দলের অন্য সদস্যরা হলেন তমালিকা (ভোকাল, কি বোর্ড ও মেলোডিকা প্লেয়ার), স্নেহা (গিটার), গীতা (হ্যান্ড সনিক ও ম্যানুয়াল পার্কাসন), চন্দ্রিমা (কি বোর্ড) এবং সম্পূর্ণা ( ড্রাম)। এদের সবাইকে নিয়ে প্রায় দু’বছর হলো, আমরা ক্ষ্যাপা মহিলা দলের যাত্রা শুরু করেছি। এই পথ চলতে চলতে মনে হল, যারা মূলত এই দলের কান্ডারী ছিলেন, তাদের আমরা সঙ্গে নিচ্ছি না কেন! তাই আমরা প্রস্তাব রাখি তাদের কাছে এবং তারা সানন্দে রাজি হয়ে যান। আমরা চাই ভবিষ্যতেও তারা এভাবেই যেন আমাদের পাশে থাকেন। তাহলে আমরা ঋদ্ধ হব, খুশি হব, আনন্দের সঙ্গে গান বাজনা করতে পারবো। আমরা চেষ্টা করি আমাদের গানে একটু নারীত্ববাদ রাখতে। যদিও নারী পুরুষ আলাদা কিছু নয়, আসলে আমরা চাই মনুষত্ববাদকে রাখতে। আমরা কেউ পিছিয়ে নেই, দুনিয়াতে সবাই এগিয়ে। আমাদের গানের এবারের থিমও তাই। অভিজিৎ এর লেখা এবং সুরে আমাদের এবারের মৌলিক গান, যেটা খুব শীঘ্রই শ্রদ্ধা মিউজিকের তরফ থেকে আসছে। সেই কাজ আমরা সবাইকে দেখাতেও পারবো। আগামীতে এবং সামনে পুজোর অনুষ্ঠান গুলোতে মানুষ যেখানে যেমন চাইবেন, আমরা সকলে মিলে একসাথে পারফর্ম করব’।
অভিজিৎ আচার্য জানালেন, ‘আমরা যখন হইহই করে গান-বাজনা করছি তখন গীতা, তমালিকা, চন্দ্রিমা, স্নেহা, সম্পূর্ণার মতো একঝাঁক তরুণ মেয়েদের মধ্যে এরকম প্রতিভা দেখলাম। মনে হল ওদেরকে নিয়ে একটা ব্যান্ড তৈরি করলে কেমন হয়? তখন গোপাকে বললাম, চলো আমরা মেয়েদের একটা ব্যান্ড তৈরি করি। কারণ আমরা তো খুব একটা সময় দিতে পারি না। বিগত দু’বছর ধরে ওরা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে। এমনকি ওদের প্রত্যেকের মধ্যেই যথেষ্ট প্রতিভা রয়েছে। আমি ওদেরকে সঙ্গ দিয়েছি মাত্র। ওদের কাজ ইতিমধ্যেই অনেকের কাছে পৌঁছে গেছে। ওরা যাতে আরও সমৃদ্ধ হয়, আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে যায় তাই এই কাজ করা। শ্রদ্ধা মিউজিক এর পক্ষ থেকে যা প্রকাশিত হতে চলেছে। শঙ্করদা, গোপা একসঙ্গে একটি গান গেয়েছে। আমরা শচীন দেব বর্মনের একটি গান গেয়েছি (তাকডুম তাকডুম বাজাই)। আরেকটি নতুন গান তৈরি করেছি আমার কম্পোজিশনে, এই নিয়ে আপাতত আমাদের জার্নিটা শুরু। চেষ্টা করব তার সাথে শঙ্করদার কবিতা রাখতে। কখনও সুকুমার রায় আসবে, কখনও সুনীল গাঙ্গুলী, কখনও আঞ্চলিক বা অন্যান্য কবিতা আসবে। এরকম ভাবেই কাজ করার একটা ইচ্ছে আছে। মানুষ যদি চায় আমাদের, আমরা হইহই করে কাজ করব’।

